জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল রয়েছে রাজধানীর শাহবাগ স্কয়ার। একই দাবিতে আজ মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনের তৃতীয় দিনে গতকালও দু’ভাগে বিভক্ত ছিলো আন্দোলনকারীরা। এক পক্ষে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ অন্য পক্ষে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্রসংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। তবে দ্বিতীয় দিনে আন্দোলনে ছাত্রলীগ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারলেও গতকাল পুরো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় বামপন্থীরা। শাহবাগে কেবল স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করেছে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ছাত্রলীগ নেতারা। আজ মহাসমাবেশের মঞ্চে কোন রাজনৈতিক নেতাকে বক্তব্য দিতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ স্কয়ারে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে বামপন্থী সংগঠন, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্লগার ও ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্টরা। গতকাল আন্দোলনের তৃতীয় দিনে সকাল থেকেই শাহবাগে জড়ো হতে থাকে আন্দোলনকারীরা। বেলা বাড়ার সাথে সাথেই শাহবাগ স্কয়ারে বাড়তে থাকে ভিড়। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্লগার, ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট, সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যোগ দেন। সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা মানববেষ্টনী তৈরির সঙ্গে সঙ্গে সম্মিলিত শপথ পাঠ করেন-যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় না নিয়ে ঘরে ফিরবেন না।
দিনভর বিভিন্ন শ্লোগান, বক্তৃতা, গান আর সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যান তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা কাদের মোল্লার ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করে তার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। তারা চারুকলার সামনের রাস্তায় যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি ও জামায়াত নেতাদের ব্যঙ্গচিত্র আঁকেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আন্দোলনকারীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষক, সুশীল সমাজের কর্মীরা। তবে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন থেকেই নেতৃত্ব নিয়ে দেখা দেয় বিরোধ। প্রথম দিকে এই আন্দোলন বামপন্থী ব্লগার ও ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্টরা শুরু করলেও পরবর্তীতে তা রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে চলে যায়। গত বুধবার দুপুরের পর থেকেই আন্দোলন দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। অন্যপক্ষে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা। আন্দোলনের মঞ্চও গড়ে তোলা হয় দুটি। এদিন উভয় পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ দেখা দেয়। আন্দোলনে সংহতি জানাতে যাওয়া সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে পানির বোতল ছুড়ে মারে বামপন্থীরা।
এই নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর থেকেই আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রলীগ ও বামপন্থীদের মধ্যে ¯œায়ু যুদ্ধ শুরু হয়। তবে গতকাল এই আন্দোলনের পুরোভাগে নেতৃত্ব দেয় বামপন্থীরা। সকাল থেকেই আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন বামপন্থীরা। তারা নিজেদের মধ্যেই মাইক হাতে রেখে শ্লোগান ও বক্তব্য প্রদান করেন। বামপন্থীদের মধ্যে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন- বাম মোর্চার সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) সভাপতি হোসাইন আহমেদ তফছির ও সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলাম, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক আসাদুজ্জামান খান মাসুম ও সভাপতি মানবেন্দ্র দেব, ছাত্র ফ্রন্টের সাইফুজ্জামান সাকন, ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর রুসমত, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। অন্যপক্ষে নেতৃত্বে রয়েছেন- ছাত্রলীগ সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সহ-সভাপতি জয়দেব নন্দী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত, আব্দুর রহমান জীবন, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, হাসানুজ্জামান তারেক, গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক অহিদুর রহমান জয়, পাঠাগার সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দীপু, উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এস এম তৈয়বুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম সোহেল, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রানা, দক্ষিণের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস, সাধারণ সম্পাদক শেখ আনিসুজ্জামান রানা। বক্তব্য দিতে পারবেন না রাজনৈতিক নেতা : জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে চলমান আন্দোলনে আজ শাহবাগে বিকেল তিনটার দিকে শুরু হবে ছাত্র-যুব মহাসমাবেশ। মহাসমাবেশের মঞ্চে ব্লগার ও ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক, সংস্কৃতিকর্মী ও যুব সংগঠনের নেতারাই কেবল বক্তব্য রাখবেন। কোনো রাজনৈতিক নেতা বক্তব্য দিতে পারবেন না।
রাজনৈতিক দল বা অঙ্গসংগঠনকে কোনো ব্যানার নিয়ে না আসার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই মহাসমাবেশে সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা। হানিফ নাজেহাল : গত বুধবার শাহবাগ স্কয়ারে আন্দোলনকারীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে এসে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর দিকে বোতল ছুড়ে মারেন বামপন্থীরা। এবার একইভাবে বোতল ছুড়ে মারা হলো আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফকে। গতকাল বিকেলে শাহবাগ স্কয়ারে সংহতি প্রকাশ করতে এসে বক্তব্য দিতে গেলে এ বোতল আক্রমণের শিকার হন তিনি। হানিফের নাম ঘোষণা করলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপরও হানিফ মাইক নিয়ে কথা বলতে শুরু করলে তাকে লক্ষ্য করে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পানির বোতল ছুড়তে থাকে। এ বোতল গিয়ে লাগে মাহবুব-উল আলম হানিফের গায়ে। এরপর হানিফ আর কোনো বক্তব্য দিতে পারেননি। তিনি মঞ্চ থেকে নেমে চলে যান। এ সময় অন্য মাইক থেকে আন্দোলনকারীরা হানিফকে লক্ষ্য করে বলতে থাকে, ‘দালালের এ রায় মানি না, মানবো না..মানবো না...’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’।
হানিফ যতক্ষণ ছিলেন, ততোক্ষণই আন্দোলনকারীরা ‘দালাল, দালাল’ স্লোগান দিতে থাকে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুলসহ বেশ কয়েকজন নেতা আন্দোলনকারীদের থামাতে চাইলেও তারা ব্যর্থ হন। এর আগে সকালে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী সাহারা খাতুন সংহতি প্রকাশ করতে এলে তিনিও আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়েন। লাঞ্ছিত হচ্ছেন আওয়ামী নেতারা : শাহবাগ স্কয়ারে চলমান আন্দোলনে বামপন্থী নেতারা সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে পারলেও বক্তব্য দিতে দেয়া হচ্ছে না আওয়ামী লীগ নেতাদের। আন্দোলনকারীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে ইতোমধ্যে লাঞ্ছিত হয়েছেন একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা। বামপন্থীদের তোপের মুখে কয়েকজন নেতা বক্তব্য না দিয়েই ফিরে এসেছেন। এর মধ্যে গত বুধবার রাথে সংহতি প্রকাশ করতে যাওয়া সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারা হয়। পরবর্তীতে গতকাল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী সাহারা খাতুন। এই তিনজনই সহংতি প্রকাশ করে তোপের মুখে বক্তব্য দিতে পারেননি। তবে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বক্তব্য দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্ম জন্মেছে দেশকে কালিমামুক্ত করার জন্য। আর তাই কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনের প্রতি আমি একাত্মতা প্রকাশ করছি। ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত তরুণদের সংহতি চত্বরে থাকার জন্য আহ্বান জানান তিনি। এরপর কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনরত তরুণদের উদ্দেশে তিনি একটি স্ব-রচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই- এলাহী চৌধুরী বলেছেন, আমি বক্তৃতা দিতে পারি না এবং আমি এখানে বক্তৃতা দিতেও আসিনি। আমি এসেছি তরুণদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে। আমি চাই এখানে যে তারণ্যের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তার জয় হোক। আওয়ামী লীগ নেতারা লাঞ্ছিত হলেও বামপন্থী নেতারা সংহতি প্রকাশ ও বক্তব্য দিয়েছেন প্রতিদিনই। আন্দোলনের তিন দিনে তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূরসহ বামপন্থী নেতারা। শাহবাগ অবরোধে তীব্র যানজট : কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকেই রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে আছেন আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবার ও বুধবার জামায়াতের ডাকার হরতাল ধাকায় এর প্রভাব তেমন রাজধানীতে পড়েনি। তবে দুদিন হরতালের পর গতকাল কর্মদিবসে এর প্রভাব পড়ে নগর জুড়ে। শাহবাগের চারপাশের রাস্তা বন্ধ থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় রাজধানী জুড়ে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষ ও কর্মস্থল ফেরত চাকরিজীবীদের। গতকাল দিনভর রাজধানীর পল্টন, গুলিস্তান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নীলক্ষেত, ফার্মগেট, সাইন্সল্যাব, মগবাজারসহ রাজধানীর প্রায় সব সড়কে ছিলো তীব্র যানজট। এতে বিপাকে পড়েন অফিস ফেরত সাধারণ মানুষরা। দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে থেকেও যানজট নিরসন না হওয়ায় অনেকেই বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে ও রিকশায় রওনা হন। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, নীলক্ষেত মোড়ের রাস্তায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ধানমন্ডি থেকে মতিঝিলগামী যানবাহন হাতিরপুল ও রূপসী বাংলা মোড় দিয়ে এবং মতিঝিল থেকে বিভিন্ন গন্তব্য চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। মঙ্গলবার কাদের মোল্লার রায় হওয়ার পর থেকে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ স্কয়ারে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা ও ক্ষমতাসীন মহাজোটের নেতাকর্মীরা।
ঢাকার বাইরে আমাদের ব্যুরো, অফিস ও জেলা সংবাদদাতাদের পাঠানো রিপোর্ট চট্টগ্রাম : গতকাল দ্বিতীয় দিনের মত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেছে বামসংগঠন ও সাংস্কৃতিককর্মীরা। সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগ চট্টগ্রামের ব্যানারে আয়োজিত এ সমাবেশে সমবেত সব শ্রেণী পেশার মানুষের কণ্ঠে দাবি ছিল ‘রাজাকারের ফাঁসি চাই, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে রাজাকারের ঠাঁই নাই।’ সমাবেশে সংহতি জানাতে আসেন শিল্প মন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এসেছিলেন নগর আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম, নারী নেত্রী নুরজাহান খান, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। বিকেল তিনটায় সমাবেশ শুরু হলে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জামালখান মোড় থেকে চেরাগি পাহাড় পর্যন্ত এলাকা। বিকেল থেকেই ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুরো এলাকা জুড়ে শুরু হয় সমাবেশ। খুলনা : ফাঁসির রায় ঘোষনা করার জোরালো দাবি করেছে খুলনা বিক্ষুব্ধ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ এবং বিক্ষুব্ধ বঙ্গবন্ধু পরিষদ (স্বাস্থ্য)। এই দাবিতে তারা গতকাল বেলা ১টায় ডা. মিলন চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিএমএ’র সহ-সভাপতি ডা. বাহারুল আলম সভাপতিত্ব করেন। অপরদিকে, একই দাবি জানিয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনত অবস্থান কর্মসূচী পালন করে। অবস্থানকারীরা মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় রাজনীতিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। শিববাড়ি মোড়ের গোলচত্বরে বেলা সাড়ে ১০টা থেকে তারা অবস্থান নেয়। বরিশাল : বরিশালের বিভিন্ন সংগঠন ও তরুণ প্রজন্ম স্বোচ্চার হয়ে উঠেছে। পথে নেমে এসছে তরুণ প্রজন্ম। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা সড়ক অবরোধ করে। একই দাবীতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্ররা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। বিকালে নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডে সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ, গণসঙ্গীত ও মোমতাতি প্রজ্বলন করা হয়েছে। শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা বেলা ১১টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে এক পর্যায়ে কলেজ সংলগ্ন বাঁধ রোড অবরোধ করে। সড়ক অবরোধ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ ঐ সড়কটি দিয়ে একঘন্টা কোন যানবহন চলাচল করতে পারেনি। পরে অবরোধকারীরা ক্যাম্পাসে ফিরে এসে সমাবেশে করে। মাগুরা : মাগুরা সরকারী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনের সড়কে ছাত্র-ছাত্রীরা গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে। এ সময় তারা অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে নানা শ্লোগান, ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন করছে।
সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্বরা একাত্মতা প্রকাশ করছে। নেত্রকোনা : নেত্রকোনা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী গতকাল জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সকাল ১১টায় স্থানীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি বের হয় জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূনরায় শহীদ মিনারে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। বাগেরহাট : বাগেরহাটে শহীদ মিনারে সমাবেশ হয়েছে। গতকাল বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের জনতার ব্যানারে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির নেতা এ্যাড.রেজাউল করিম,ফররুখ হাসান জুয়েল,মানিকলাল মজুমদার,সাংস্কৃতি ব্যাক্তিত্ব মোল্লা রবিউল আলম,আওয়ামীলীগের সংগঠনিক সম্পাদক মির ফজলে সাইদ ডাব্লু,শিল্পি সমাদ্দার প্রমুখ। মাদারীপুর : গতকাল সকালে মাদারীপুরের বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ মিাছল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে। মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মাদারীপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ, উদীচিসহ বিভিন্ন সংগঠন ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে। এসময় আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। রাঙ্গামাটি : গতকাল বিকাল থেকে রাঙ্গামাটিতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা বিক্ষোভ শুরু করেছেন। রাঙ্গামাটি শহরের নিউমার্কেট চত্বর এলাকার অস্থায়ী মঞ্চে স্থানীয় জনতার বিক্ষোভ চলাকালে শিল্পীদের গান, কবিতাসহ বিভিন্ন শ্লোগান দেয়া হয়। গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ , মানব বন্ধন ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ। এসময় বিভিন্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করে এসব কর্মসূচিতে অংশ নেয়। নেত্রকোনা : গতকাল বিকাল থেকে নেত্রকোনা শহীদ মিনার চত্বর বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। ফেসবুক ও বিভিন্ন ব্লগে এ রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর আহবান জানালে জেলা শহরের নতুন প্রজন্মসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার বিক্ষুদ্ধ লোকজন শহীদ মিনারের জমায়েত হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে শ্লোগানে শ্লোগানে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তুলে। নড়াইল : গতকাল বেলা ১১টায় আদালত সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে জেলা আওয়ামীলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, ১৪দল, জেলা আইনজীবি সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে। জাবি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যলয়ের ‘প্রগতিশীল ছাত্রজোট’ ও ‘জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট’ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা এ কর্মসূচি পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে পুরাতন কলা ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে পুরাতন কলা ভবনের সামনে মুন্নি চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়। রাবি : বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। গতকাল সকাল থেকেই প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট, চারুকলা বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ পৃথক পৃথক ব্যানারে এ কর্মসূচী পালন করে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বরে ফাঁসির দাবিতে গণ মঞ্চও করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণজমায়েতের আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক জোট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক জোটের শিল্পীরা সঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তি, নাটক প্রদর্শণ শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করে শহীদ মিনারে জড়ো হয়। ফরিদপুর : ফদিরপুরে আন্দোলন ৩ দিনব্যাপী অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বিকের থেকে আন্দোলনকারীরা শহরের প্রাণকেন্দ্র জনতা ব্যাংকের মোড়ে অবস্থান নেন।
বক্তারা কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায় প্রত্যাখ্যান করে এ রায়কে আঁতাতের রায় হিসেবে আখ্যা দেন। পাবনা : পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, সাংস্কৃতিক সংগঠন, ছাত্র সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ গতকাল বৃহস্পতিবার পাবনায় বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন, কুশপুত্তলিকা দাহ এবং সমাবেশ। রংপুর : কাদের মোল্লাহসহ সকল যুদ্ধাপরাধিদের ফাঁসির দাবিতে রংপুরেও আন্দোলন চলছে। সকাল থেকে রাত অবধি চলছে গণজাগরণের গান, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ। দিনাজপুর : দিনাজপুরে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী এবং ছাত্র, শ্রমিক, মহিলা ও যুব সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও চেতনাকে শানিত করে ৭১’র পরাজিত শক্তি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠেছে প্রবলভাবে। মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে দিনাজপুরের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ এবং ধিক্কারের সৃষ্টি হয়েছে।
ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অফিস :‘জেগে উঠো ময়মনসিংহ’ ব্যানারে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ময়মনসিংহ শহরের ঐতিহাসিক শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জামায়াতের শীর্ষ নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে অহিংস এ আন্দোলনে নামেন অদম্য তরুণেরা। গতকাল সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের তরুণ প্রজন্মের সাথে এ আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে শরীক হন ময়মনসিংহ-৪-সদর আসনের বর্ষীয়ান সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক মুরব্বী ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান। যশোর ব্যুরো : গতকাল সকাল থেকে যশোরে ‘আমরা যশোরবাসী’র ব্যানারে শহরের চিত্রামোড়ে পালিত হচ্ছে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি। কর্মসূচিতে থেমে থেমে জ্বালাময়ী বক্তব্য, শ্লোাগান, আবৃত্তি আর সঙ্গীত চলছে। যশোরের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
Tui rajakar : তুই রাজাকার
Tui rajakar : তুই রাজাকার blog site contains Bangladeshi war criminal information, News, Photos, History of war, Shabagh Square, Gono Jagoron Moncho and much more
Saturday, February 9, 2013
উইকিপিডিয়াতেও শাহবাগ আন্দোলন
বিশ্বের মুক্ত জ্ঞানকোষের ওয়েবসাইট উইকিপিডিয়াতেও উঠে এসেছে শাহবাগের তারুণ্যের আন্দোলনের গল্প। এই ওয়েবসাইটের বাংলা সংস্করণে সাম্প্রতিক ঘটনা ক্যাটাগরিতে শাহবাগের আন্দোলন নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে।
ওই নিবন্ধের নাম রাখা হয়েছে- ‘২০১৩-র শাহবাগ আন্দোলন’। ওয়েবসাইটটি বলেছে, ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে তথ্য ক্রমাগত পরিবর্তিত হতে পারে। এই ঠিকানায় গিয়ে আপনিও পড়তে পারেন শাহবাগে তারুণ্যের প্রতিবাদী উদ্যোগের গল্প। এখানে ক্লিক করুন
source : http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-02-09/news/328001
ওই নিবন্ধের নাম রাখা হয়েছে- ‘২০১৩-র শাহবাগ আন্দোলন’। ওয়েবসাইটটি বলেছে, ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে তথ্য ক্রমাগত পরিবর্তিত হতে পারে। এই ঠিকানায় গিয়ে আপনিও পড়তে পারেন শাহবাগে তারুণ্যের প্রতিবাদী উদ্যোগের গল্প। এখানে ক্লিক করুন
source : http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-02-09/news/328001
কী জানতে চায় আজকের এই জ্বালাময়ী শাহবাগ?
কে কী বলতে চান, এই ছবি দেখে? কে কী বুঝতে চান এই ছবি দেখে? কে কী শুনতে চান কান পেতে? কখনো কখনো শোনা যায় সমূদ্রের স্রোত, কখনো বা ভিসুভিয়াসের সুর। ছবিতে ছবিতে দেখা যায় মানুষের গান, বজ্রমুষ্ঠি শক্তিধর ঈশ্বরকে। আকাশে তাকিয়ে দেখো, মেঘের নীলে বসন্তের আনাগোনা। কী দেখতে চায় বাংলাদেশ, কী শুনতে চায় বাংলাদেশ, কী ভাবতে চায় বাংলাদেশ.... কী জানতে চায় আজকের এই জ্বালাময়ী শাহবাগ?????
তুই রাজাকার তুই রাজাকার(ringtone)
Do you needতুই রাজাকার তুই রাজাকার(ringtone) ?
Here is the link visit : https://soundcloud.com/shadhinbangladesh/all-rajakar
Here is the link visit : https://soundcloud.com/shadhinbangladesh/all-rajakar
জবাব দে রাজাকারের বাচ্চা
ইসলাম
বলে প্রমান ছাড়া কাউকে কিছু বল কুফরি ,চার বছরের যে ছেলেটা সারারাত শাহবাগ
চত্বয়ে সজাগ থেকে শ্লোগান দিছে রাজাকারের ফাঁসি চাই ,সে নাস্তিক ? পাঁচ
ওয়াক্ত নামায পড়ে ,যেখানেই যায় সেখানেই কোরান নিয়ে যায় শাহরিয়ার নাফিস ,সে
নাস্তিক? চট্রগ্রাম মাদ্রাসার যে ছাএরা ফাসির দাবিতে আন্দোলনে, তারা
নাস্তিক ?
Subscribe to:
Posts (Atom)

